Thursday, November 9, 2017

ফোনে ব্যক্তিগত গোপন তথ্য রাখছেন? সাবধান !

অাপনি কি জানেন, অাপনার হাতের ফোনটিই একসময় অাপনার বড় ধরণের বিপদের কারণ হতে পারে? অাপনি শিকার হতে পারেন ব্ল্যাকমেইল কিংবা বড় রকম ক্ষতির । হারিয়ে ফেলতে পারেন অাপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রাখা টাকা ।
এটা নিশ্চিত প্রত্যেকের ফোনো প্রয়োজনীয় ফোন নাম্বার, ইমেইল, পাসওয়ার্ড, ব্যাকং অ্যাকাউন্ট, ব্যক্তিগত বা গোপন ছবি, ভিডিও, অডিও, তথ্যসহ বিভিন্ন ফাইল থাকে ।
ফোনে ব্যক্তিগত গোপন তথ্য রাখছেন? সাবধান !

১. হারিয়ে যাওয়া বা চুরি হওয়া: ফোন হারিয়ে যাওয়া, চুরি বা ছিনতাই হওয়া খুবই সাধারণ বিষয় । সেই হারানো বা চুরি হওয়া ফোন এমন কারো হাতে পৌঁছাতে পারে, যে অাপনার ফোনে রাখা গোপন তথ্য নিয়ে অাপনাকে ব্ল্যাকমেইল করতে পারে এমনকি অাপনার বড় রকমের ক্ষতিও করতে পারে । ইন্টারনেটে স্বামী-স্ত্রী কিংবা প্রেমিক-প্রেমিকার অন্তরঙ্গ মূহুর্তের বিভিন্ন ছবি, ভিডিওি, অডিওর ছয়লাব । অাপনি যদি অাপনার ফোনে এমন কিছু রাখেন, তাহলে ইন্টারনেট হ্যারেজম্যান্টের শিকার অাপনিও হতে পারেন অাপনার অজান্তেই । সারা পৃথিবীতে এরকম শিকারের মানুষের সংখ্যা এতোবেশি কল্পনাও করতে পারবেন না । তাই গোপন কিছু যদি সংরক্ষণ করে রাখতেই হয় তবে তা কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভে এনক্রিপ্টেড করে রাখুন ।
২. মেমোরি বা স্মার্টফোন বিক্রি: অামরা অনেকসময় অামাদের ফোন বা মেমোরি কার্ড অন্যের কাছে বিক্রি করে দেই । বিশেষ করে স্মার্ট ফোন ও মেমোরি কার্ড বিক্রি করা মোটেই নিরাপদ নয়, যদি এসবে অাপনার ব্যক্তিগত গোপন তথ্য থাকে । অাপনি ডিলিট করে দিলেও সেটা বিভিন্ন সফটওয়্যারের মাধ্যমে রিকভার বা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব । অাপনার মেমোরি যদি নষ্ট ও হয়ে যায়, তবু সেটা অন্যের হাতে যেতে দিবেন না । প্রয়োজনে ভেঙ্গে ফেলুন ।
৩. অনিরাপদ অ্যাপ ইনস্টল: অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় অামাদের প্রায় সবার হাতে হাতে এখন স্মার্টফোন, যার বেশিরভাগই অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম । দৈনিন্দন প্রয়োজনে অামরা অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপগুলো ইনস্টল করে বিভিন্ন সুবিধা নিচ্ছি । অথচ ইনস্টল করার সময় অামরা একেবারেই সচেতন নই যে, অ্যাপগুলো কী কী পারমিশন নিচ্ছে এবং সেটা অামাদের জানিয়েই । অামাদের অ্যাপ ইনস্টল করতে হবে, তাই করছি । অথচ নিরাপত্তার কথা একবারও ভাবছি না । অনেক অনিরাপদ অ্যাপই অামাদের ফোনের কন্টাক্ট নাম্বারসমূহ, এসএমএস, ফাইল, ফটো, ওয়াইফাই ইত্যাদির অ্যাক্সেস গ্রহণ করে থাকে । এসব পারমিশনের মাধ্যমে অামরা অনেকটাই অনিরাপদ, যদি না বিশ্বস্ত ও ব্রান্ড অ্যাপ ডেভলেপারদের অ্যাপ ইনস্টল করি । সবসময় চেষ্টা করবেন অনিরাপদ নন-ব্রান্ডিং অ্যাপ গুলো থেতে দূরে থাকা ।
৪. মেমোরি বা স্মার্টফোন অন্যের হাতে দেয়া: এমন কাউকে অাপনার মেমোরি বা স্মার্টফোন দিবেন না, যে অাপনার সুযোগের ব্যবহার করে অাপনার ক্ষতি করতে পারে ।
বিস্তারিত »

Wednesday, November 1, 2017

বোকা মেয়ে আর বোকামি করোনা

একটা নারীর স্বর্ণকালের সময়সীমা কিশোরী থেকে বিয়ের আলোচনার আগ পর্যন্ত । এই সময়ে প্রচলিত সমাজব্যবস্থায় তার কদর অসীম, সমাজে তাদের চাহিদা অনেক । তার পেছনে হাজার ছেলের লম্বা লাইন । প্রপোজ পেতে পেতে ক্লান্ত । অথচ তার সমবয়সী ছেলেদের অবস্থা করুণ । বিশেষ করে যে ছেলেগুলোর বয়স ১৫ থেকে ২০ । একটা মেয়েকে তখন যতোটা পরিবার-আত্মীয়স্বজন-সমাজ গুরুত্ব দেয়, তার সিকিভাগও ছেলেকে দেয় কিনা সন্দেহ । এই সময়টাতে ছেলেরা নিজেকে যথেষ্ট অবহেলিত মনে করে, অসহায়বোধ করে । তার সমবয়সী একটি মেয়ে যখন সামাজিকতায় ঢের বহুদূর, সেখানে সেই মেয়ের কাছে সে শিশুতুল্য ।

নারীদের এই স্বর্ণকালের দিকটা বিবেচনা করে কেউ যদি এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, ‘কে বলেছে নারীদের দাম নেই, মূল্য নেই?’ সে কিন্তু যথার্থই ভুল করেছে । কারণ, সেই নারীর নারীত্ব যখন বিয়ের আলোচনা পর্যন্ত যায় তখন থেকেই শুরু হয় তার সস্তা দামে নারীত্ব বিক্রির বাজারালাপ । নারী সে যতোই শিক্ষিত হোক, সুন্দরী হোক যৌতুক ছেলেকে দিতেই হবে । অথচ এই নারীর জন্যই একসময় কত ছেলে অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিতে চেয়েছিলো ।

না, নারীকে আমি ছোট করে দেখছিনা, নারীর অহংকারের পতনের কথাও বলছিনা; বলছি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি কতটা জঘন্য সেটা । আমাদের সমাজে একসময় সেই অবহেলিত ছেলেটিকেই আজীবন মাথায় তুলে রাখে । কখন জানেন? যখন ছেলেটা কিছু একটা করছে । হয় উচ্চশিক্ষা নয়তো অর্থ উপার্জন । তখন সেই ছেলেটার হাজারও দোষ একচোখা, স্বার্থপর সমাজের চোখে পড়েনা । হাজার অন্যায় সত্ত্বেও সেই ছেলেটা যখন সেই মেয়েটির স্বামী হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়, স্বামীর মন যুগিয়েই তাকে চলতে হয় । কী যৌতুক ! কী স্ত্রীর উপর নির্যাতন ! নারীর শরীর না সইতে পারলেও সমাজ ঠিকই সয়ে নেয় ।

আসলে মূল ব্যাপারটা হলো যখন যে সমাজকে কিছু দিতে পারবে তখন সমাজে তার দাম আছে, গুরুত্ব আছে । বিয়ের আলোচনার আগ পর্যন্ত একটা মেয়ে সমাজে সবচেয়ে মূল্যবান জিনিসটা দেয় । তা হলো তার রূপ-যৌবনের সৌন্দর্য্য । সমাজটা পুরুষতান্ত্রিক বিধায়, এক্ষেত্রে কুমারী নারীর গুরুত্ব বেশি (নারীতান্ত্রিক থাকলে অবশ্য পুরো ব্যাপারটাই বিপরীত হতো । সমবয়সী ছেলেদের দাম-গুরুত্ব থাকতো বেশি । আর বাকি পুরো সময়টা মেয়েদের স্বর্ণকাল ) । আবার যখন ছেলেরা নাম ডাক কুড়িয়ে, অর্থ উপার্জন করে পরিবারের-সমাজের ভার গ্রহণ করে তখন পুরো রাজত্বই তার । রাজার আবার বিচার !


এতো কিছু বলার উদ্দেশ্য একটাই । মেয়ে, তুমি আজকে যতো সম্মান-কদর-মূল্য পাচ্ছো তা কিন্তু তোমার জন্য একটা ফাঁদ ছাড়া কিছুই না । ফাঁদে আটকা পড়লেই গেলো । এতো সম্মান-কদরের আবরণের ভিতরে তোমার করুণ দিনগুলো অপেক্ষা করছে । তাই কারো তোষামোদী, সম্মানে, গদগদ রূপ বর্ণনায় দিশেহারা না হয়ে স্থির হও, বিবেক দিয়ে সিদ্ধান্ত নাও, সামনে আগাও, জেগে উঠো । বাকি সারাটি জীবন অন্যায় সয়ে যাবে নাকি মানুষ হয়ে বেঁচে থাকবে । সমাজের ভার পুরুষ একাই তুলে নিবে নাকি তুমিও নিবে । বোকা মেয়ে আর বোকামি করোনা ।

[বিঃদ্রঃ নারী, তোমাকে তুমি করেই বললাম । যদিও আমি অনেক ছোট । ছোট ভাই অথবা বন্ধু হিসেবে কথাগুলো হজম করলেই হয় । ছেলেরা, ক্ষেপবেন না । সব ছেলেরাই খারাপ সেটাও না আবার সব মেয়েরাও খারাপ সেটাও না । সমাজের দায়ভার দুজনকে নেয়া অবশ্যকর্তব্য । তাহলে কেউ কারো দ্বারা প্রতারিত হবেনা, নির্যাতিত হবেনা । ]

ইলিয়াস অাহমেদ
১৯.০৭.২০১৫
রংপুর, বাংলাদেশ
বিস্তারিত »

বিপ্লব হবে - বাংলা কবিতা

‘বিপ্লব হবে জনতার’ হুশিয়ার এলো ঐ কালস্রোত ভেসে
সাবধান শাসনে শোষক, রক্তচোষক !
ক্ষতবিক্ষত পিঠ এবার হবে ঢাল
যারা গড়েছে ভূতল, বহুতল; এক করেছে অাকাশ পাতাল;
কড়া হাতে ছুটে চলে অালোর মশাল,
ছুটে জনতা সত্যের নেশে ।
প্যাডেলে প্যাডেলে দুর্বার অথচ সংকীর্ণ শব্দ;
অবাধ্য প্রতিরোধ - শোষিতের গুঞ্জন
দানবটা ভয়ে ভীত, স্তব্ধ ।
সরণিতে রমণী, অাঁখিতে তার ধ্বংসের অাগাম চিত্র -
এ সংগ্রামে জেগেছে, জন্মেছে, জন্মাবে শত শত ইলামিত্র ।
প্রাচীর ভেঙ্গে দাও,অাবরণে মুক্ত হোক ধরা-
জয় হোক শাশ্বত সত্যের, ছুঁড়ে পুরাতন-জরা ।

‘জয় হবে ন্যায়ের’ অভিশাপ শুনি কলে পিষ্ট,
শ্রমে ক্লিষ্ট হাড়গোনা শ্রমিকের, দিনমজুরের
ধ্বংস ধ্বনিত শেলবিদ্ধ বুকে ।
কষে লাথি হবে শোষক, পুঁজিবাদের গদিতে;
কর্পোরেটের বৃত্ত ভেঙ্গে হবে খান খান !
অাগাম চিত্র দেখি শরীরভেজা রক্তঘামের স্রোতে ।
সয়েছি অনেক, রয়েছি নিশ্চুপ, হয়েছি নব্য দাস -
চাবুকে পঁচন ধরেছে; এবার সয় পিঠে বিরুদ্ধ উল্লাস !
বদলে যাবে চাবুকের হাত, বদলাবে চাবুক ।
চাবুক পিটিয়ে এবার ওরা শিখাবে সভ্যতা
যারা গড়েছিলো বস্তু পাথার, এবার সে লগ্ন অাসুক !

না, এসেছে সে লগ্ন, জেগেছে জনতা গোপণে
মৃত্তিকা ভেদ করে উঠলো বলে বিপ্লবের বীজ রোপণে ।
জেগে ওঠো প্রাণ, তুমি অক্ষয়, তুমি অব্যয় !
‘প্রাণের স্পন্দনে প্রাণ জাগুক’ সময়ের শাশ্বত প্রত্যয় ।
 
ইলিয়াস অাহমেদ
রংপুর, বাংলাদেশ
২৫.০৫.২০১৬
[কোলকাতার অসময় প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত শত পারিজাত কাব্যগ্রন্থে পূর্বপ্রকাশিত]
বিস্তারিত »

সয়ে গেছে অন্ধকার - গল্প

অালো থেকে বেরিয়ে হঠাৎ অন্ধকারে চোখ রাখলে প্রথম প্রথম কিছুই দেখা যায় না । কিন্তু সেই অন্ধকারে কিছুক্ষণ কাটিয়ে দিতে পারলে চারদিকটা অাগের তুলনায় অনেকটা দৃশ্যমান হয় । তাই বলে কি এই অন্ধকার সেই অালোর থেকে উত্তম? হ্যা, উত্তম ধরেই অামরা মানুবজাতি অাজ অন্ধকার জগতকেই বেছে নিয়েছি । ভুলে গিয়েছি অালোর জগত অার সয়ে গেছে অন্ধকার । অন্ধকারে যতটুকু দৃশ্যমান হয় তারচেয়ে হেয়ালি অার প্রতারণা থাকে বেশি । ঝুলিয়ে থাকা পরিত্যক্ত কাপড়কে দেখলে মনে হয় কে যেনো দাঁড়িয়ে অাছে, দূরের কাকতাড়ুয়া দেখলে মনে হয় ভূত, রাস্তায় পড়ে থাকা পাঁকানো দঁড়ি দেখলে মনে হয় সাপ । অন্ধকারে অালোর স্বর্গময় পৃথিবী হয়ে যায় দেও-দানবের পাতালপুরী । দিনের অালোতে যে রাস্তা ধরে অনায়াসে মাইলের পর মাইল চলে যাওয়া যায় সেই চিরচেনা রাস্তা উঁচুনিচু তোয়াক্কা না করেই রাতের অাঁধারে অনুমানে চলতে হয় । ফলে কদমে কদমে থাকে হোঁচট খাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা । এটা তো প্রায় সময় হয়, সাইকেল নিয়ে রাতের অন্ধকারে অালোর অভাবে পাশের নর্দমায় পড়ে গিয়েছে সাইকেল অারোহী; কখনোবা পথিকের গায়ে লাগিয়ে দিয়েছে । পরিণামদর্শীতা জেনেও অনুমান কখনোই বিজ্ঞান হতে পারে না, দিনের অালোর ন্যায় স্পষ্টতা হতে পারে না । কিন্তু সেই অনুমানকেই অামরা সিদ্ধ সূত্র হিশেবে অন্ধবিশ্বাস করে চলেছি; কদমে কদমে হোঁচট খাচ্ছি অার মাঝে মাঝেই পঁচা নর্দমায় শোনা যাচ্ছে অালোহীন মানুষগুলোর লম্ফঝম্ফ ।

অালো দেখলে মানুষগুলো অাজ বড্ড ভয় পায় । কারণ সে অালোর ঝলকানিতে তারা একদিন ধ্বংসলীলা দেখেছে । সেদিন সে অালো ঝলসিয়ে দিয়েছে কত প্রাণের সজীবতা । অালোকজ্ঞানের দাম্ভিকতায় জোরপূর্বক উত্তরাধিকারসূত্রে যাদের হাতে অালোক প্রদীপটি এসে পড়েছিলো তারা নিজের স্বার্থে সে অালোর করেছে বারবার অপব্যবহার । মানুষগুলোর সহজ-সরল বিশ্বাসের সুযােগ নিয়ে প্রতারণা করেছে বারবার । পথ দেখানোর নামে, সুন্দর পৃথিবী দৃশ্যমানের প্রতিশ্রুতির পরিবর্তে সেদিন ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়ে ডাকাতি করেছে, পুড়িয়ে মেরেছে কত প্রাণ । সেদিন দেখেছে মানুষ অালোর অপব্যবহারের বীভৎস রূপ ! এখন রাতের অন্ধকারে জোনাকির অালোটাও বড্ড ভয় লাগে । বড্ড ভয় পায় মানুষ দিনের অালো । তাই অালোর পৃথিবী থেকে নির্বাসন নিয়ে অন্ধকার জগতে অবতরণ করেছে । এ গ্রহটায় যখন পা রাখে প্রথম প্রথম কিছুই দেখা যাচ্ছিলো না । কিন্তু কিছুক্ষণ কাটানোর পর মানিয়ে নিতে পেরেছে সবাই । সয়ে গেছে অন্ধকার । অন্ধকার এ গ্রহে অন্ধকারালয়ে জ্বলেনা কোনো প্রদীপ - মানব দেখেনা মানবীর রূপ, মানবী দেখেনা মানবের রূপ । হাতড়িয়ে যতটুকু সুখ পাওয়া যায় তাতেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় । কিন্তু এতে করে দিনে দিনে নিজের ভিতর পশুত্বই বেড়ে চলেছে । অনুমানে চলতে হয় বলে রাতের অন্ধকারে সন্দেহ অনেক । ছোটদের মনে ভূত-প্রেত, দেও-দানবের ভয় অার বড়দের ভয় ওটা বুঝি অনিষ্টকর মানুষ । কতবার অনুমানে অার সন্দেহে অাত্ম-নিরাপত্তার জন্য বর্শা ছুঁড়েছে, গুলি করেছে - তার ইয়ত্তা নেই । কাছে গিয়ে স্পষ্ট হয়েছে এ যে তারই সহোদর ! অাদরের ভাইয়ের বুক থেকে তখন রক্ত পড়ছে । কিন্তু অন্ধকারে রক্তের রং যে লাল নয়, কালো । হ্যা, এভাবেই মানুষগুলো দিনে দিনে পশুতে পরিণত হচ্ছে । অন্ধকার জগত, সুস্পষ্টতার অভাবে কে কার অন্ন ধ্বংস করলো, কে কার স্ত্রীকে নিজের স্ত্রী মনে করে জড়িয়ে নিয়ে শুয়ে পড়লো এটা নিয়ে অাজকাল কেউ মাথা ঘামাচ্ছে না । সেটার সুযোগ অাছে? অন্ধকার তো, কেউ কি কাউকে চিনতে পারছে । অার কাছে গিয়ে চিনতেও চায় না । পাছে বেঁচে থাকার বিশ্বাস ভেঙ্গে যায় । ঐটুকুনই তো বাকি অাছে ।

কেটে গেলো সহস্র বছর । এ গ্রহের ইতিহাস হয়েছে বীভৎস থেকে বীভৎসতর । মানুষগুলোর পঞ্চইন্দ্রিয় ঠিকই অাছে । শুধু বোধটুকুন, যুক্তিটুকুন লোপ পেয়েছে । বর্তমান প্রজন্ম ভুলে গিয়েছে তাদের পূর্বপুরুষ একসময় অন্যগ্রহের বাসিন্দা ছিলো, যে গ্রহে অালো ছিলো । অামি তাদের অালোর গল্পই বা শুনাচ্ছি কেনো? অালো দেখতে কেমন এটা কি এরা জানে? কল্পনা করতে পারবে? কল্পনায় কতদূর যাওয়া যায় । যা কখনোই দেখা হয় নি, সেটা কি কল্পনায় দেখা সম্ভব? অনুভব করা সম্ভব? অাজন্ম অন্ধ কি পেরেছে কল্পনায় লাল-নীল-সবুজ রঙ্গ অাঁকতে? সে জেনেছে ঘাসের রং সবুজ কিন্তু সেই সবুজ অাসলে কী, কেমন - এটা কি সে কল্পনায় বুঝতে পেরেছে? অন্ধকার গ্রহের এ প্রজন্মও কল্পনা করতে পারেনা অালো কী, কেমন । সেটা সম্ভবও নয় । তাই বলে কি অালো সত্য নয়, এই অন্ধকারই সত্য? তাদের কাছে তাই । কারণ, তারা যুক্তি বুঝেনা, তাদের বোধশক্তি নেই ।

দীর্ঘ অনেকটা সময় জীবিকা অন্বেষণের পর এ গল্পের নায়ক-নায়িকা দুজন শুয়ে অাছে একটা কুঁড়েঘরে । তাদের কথাবার্তা শোনা যাচ্ছে তবে তাতে যেনো কোনো রাখঢাক নেই । অশ্লীল নাকি শ্লীল, রাগান্বিত নাকি উচ্ছ্বসিত কোনোটাই বুঝা যাচ্ছিলো না । কারণ অন্ধকারে দূর থেকে তাদের মুখ ও ঠোঁটের ভাঁজ দেখা সম্ভব নয় । একটু পর দুর্বোধ্য শব্দগুলো ক্রমশ তীব্রতর হচ্ছিলো । এ ঘরে ও ঘরে, অাশেপাশে সবখানে সবাই এবার খুব জোরে সােরে চেচামেচি করছে । সবাই ঘর থেকে বেরিয়ে এলো । সব জড় হয়ে গিয়েছে । দূর থেকে একটা অালো ক্রমশ বড় হচ্ছে । মনে হচ্ছে সেটা এদিকেই অাসছে । সবাই ভয়ে অারো জোরেসোরে শব্দ করছে । ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা যারা বড়দের সাথে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েছিলো তারা ভয়ে ঘরে চলে গেলো । কারণ, ছোটবেলা থেকেই তারা এই দানবের কথা শুনে অাসছে, এটা অনেক ভয়ানক জিনিস । সব ধ্বংস করে দেয়, সব ঝলসিয়ে দেয়, সব অঙ্গার করে দেয় । যদিও তারা ঝলসানাে অার অঙ্গার জিনিসগুলো জানেনা । তবে তারা জানে তীব্র শীতের হাড়কাঁপানো শৈত্য । এরকম কিছু যেটা তার চাইতে অারো প্রবল এমনটি কল্পনা করে তারা ভয় পায়, তাদেরকে ভয় পাওয়ানো হয় । অালোটা এবার অনেক কাছে চলে এসেছে । প্রায় কাছে অাসতে পরিষ্কার হলো সোনালী মুখের একজন মানুষকে, যার হাতে একটা অালোর মশাল । অালোর মশালে অল্পসময়ের জন্য অাশপাশটা অালোকতি করে ফেললো কিন্তু সেটা খুব অল্প সময়ের জন্য । এরই মধ্যে তাকে টার্গেট করে বৃষ্টির ন্যায় পাথর নিক্ষেপ । যে নিয়ে এসেছিলো অালো সে অার বেশিক্ষণ এখানে টিকতে পারলো না । দৌড়ে চলে গেলো । হয়তো শরীরের অনেকাংশে রক্ত ঝড়ছিলো কিন্তু সেটা তো অার এরা দেখতে পায় নি, এরা রক্ত চিনে না, রক্তের রং লাল সেটা এরা জানেই না । অন্ধকার পাড়া জুড়ে অনেকক্ষণ গুঞ্জণ শোনা যাচ্ছিলো । একসময় নীরব হয়ে গেলো । সবাই ঘুমাতে গেলো ।

পরের প্রজন্মের জন্য নতুন একটা গল্প যোগ হলো । এই ঘটনাটি সে গল্পে নতুন মাত্রা পেলো । মা তাদের সন্তানদের, দাদা-দাদী তাদের নাতি-নাতিনদের বলতে শুরু করলো, "সে অালোয় অামরা অামাদের রূপ দেখতে পেয়েছিলাম । অামরা কিন্তু এরকম নই । গায়ের রঙ সে কি অপূর্ব ! অাগে কখনো দেখিনি । তবে একটা জিনিস খারাপ লেগেছিলো । অালোর চারপাশে যারা ছিলো তাদের শরীরে অনেক ক্ষত দেখা গিয়েছিলো । বোধহয় হোঁচট খাওয়ার দাগ, যেখানে সেখানে কেটে যাওয়ার দাগ ।" গল্প শুনে ছোট ছেলেমেয়েরা শিহরিত হতো, যে স্বপ্ন দেখা তাদের পূর্বপুরুষরা ভুলেই গিয়েছিলো তারা এবার স্বপ্ন দেখা শুরু করলো, অপূর্ব গায়ের রঙ্গ কল্পনা করতো । যদিও সেই অালোর মশালবাহীকে হিংস্র, দেও-দানবের সন্তান বলে গল্পে তুলে ধরা হতো, তবু কি করে জানি এ প্রজন্মটা তাকে স্বপ্নের নায়ক, বীর বলেই বুকে জায়গা দিয়ে দিয়েছিলো । এভাবেই বড় হচ্ছে প্রজন্ম । তারা যে স্বপ্নের জাল বুনে যাচ্ছে সে জালেই হয়তো একদিন ধরা পড়বে সত্যটা । এরাই একদিন তাদের জগতটা অালোকিত করবে । অন্ধকার থেকে বেরিয়ে অাসবে অালোর জগতে । কথাগুলো ভাবছিলো পাহাড়ের ওপাশের অালোর বাসিন্দা, যে একসময় অালোর মশাল নিয়ে তাদের সামনে যেতেই তোপের মুখে পড়তে হয়েছিলো । সে শুধু চেয়েছিলো তারা শুধু একবার অালো দেখুক । ব্যস, এতোটুকুই । সে স্বপ্ন পূরণ হয়েছে তবে তার দুটো পায়ের বিনিময়ে । পাথরের অাঘাতে অনেক ক্ষত হয়েছিলো । তারপর পঁচন ধরেছে । শেষ পর্যন্ত পা দুটোই হারাতে হয় । এতোকিছু হারানোর পরেও তার মুখে স্বপ্নাতুর হাসিটা লেগেই অাছে । ঠোঁটের দৃঢ়তায় তার অটুট অাত্মবিশ্বাস স্পষ্ট প্রতীয়মান ।

ইলিয়াস অাহমেদ
রংপুর, বাংলাদেশ 
৯.০৬.২.১৬ 
বিস্তারিত »